পতেঙ্গা ও ইপিজেডে আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে রমরমা অসামাজিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক চট্টগ্রামের কণ্ঠ:

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন ও শিল্পাঞ্চল খ্যাত বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়িতে অবাধে চলছে অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার আপত্তি সত্ত্বেও এসব এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এসব অবৈধ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একটি নামমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মূল আস্তানাগুলো থেকে যাচ্ছে অধরা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সেলফি কুইন, বি এস এল, এস পি সি, বিচ ইন্টারন্যাশনাল, সাইনমা, সিকিং মিনি রিসোর্ট, হোটেল প্রিন্স ও মুসার হোটেলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থানা ও বিমানবন্দর এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে কোনো ধরনের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ঘণ্টাপ্রতি কিংবা চুক্তিভিত্তিক রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এতে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অবাধে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবনের আড্ডা। কিছু কিছু হোটেলে বিশেষ অতিথিদের জন্য তরুণীদের সরবরাহ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। এর নেপথ্যে হোটেলের ম্যানেজার, কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এক ছদ্মবেশী প্রতিনিধি গ্রাহক সেজে কয়েকটি হোটেলে প্রবেশ করলে দেখা যায়, পরিচয় যাচাই ছাড়াই কয়েক ঘণ্টার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এসব হোটেলগুলোতে দৈনিক গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জোড়া যুগল আসা-যাওয়া করছে এবং রেজিস্টার খাতায় ভুয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল ম্যানেজাররা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

কেবল আবাসিক হোটেলেই নয়, ইপিজেড ও বন্দর এলাকার বালুরমাঠ, ধুমপাড়া, সাগরপাড় এলাকা এবং আশেপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও লোকচক্ষুর আড়ালে ভাড়া বাসা নিয়ে একটি চক্র এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কাকলি ও চম্পা নামের দুই নারীসহ আরও কয়েকজন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এর ফলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পতেঙ্গার মতো পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

অবিলম্বে এসব অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মাননীয় পুলিশ কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।