মাত্র ৫৫০০ টাকার জন্য জীবনের ৩০ বছর অন্ধাকারে: মুক্তি পেলেন ৬৫ বছরের রাহেলা

মাত্র ৫৫০০ টাকার জন্য জীবনের ৩০ বছর অন্ধাকারে: মুক্তি পেলেন ৬৫ বছরের রাহেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

আইনের চোখে সবাই সমান বলা হলেও, নির্মম বাস্তবতা যেন বারবার ভিন্ন কথা বলে। মাত্র ৫ হাজার ৫০০ টাকার অর্থদণ্ড বা জরিমানা দিতে না পারার “অপরাধে” জীবনের শ্রেষ্ঠ ৩০টি বছর কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেলেন রাহেলা বেগম (৬৫)।

যৌবন হারিয়ে ফিরলেন বার্ধক্যে

৩০ বছর আগে যখন রাহেলা বেগম কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন একজন টগবগে তরুণী। মাথায় ছিল কালো চুল, চোখে ছিল আগামীর স্বপ্ন। আজ যখন তিনি কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে এলেন, তখন তাঁর চুলে পাক ধরেছে, শরীর নুয়ে পড়েছে বার্ধক্যের ভারে। হারিয়ে গেছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বসন্তগুলো।

যে জরিমানার দায় মেটাতে হলো জীবন দিয়ে

আদালত তাঁকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছিলেন। অভাবের তাড়নায় সেই সামান্য অর্থ পরিশোধ করার সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের। আর এই “সামান্য” অর্থই তাঁর জীবনের জন্য হয়ে দাঁড়াল অসামান্য এক বোঝা। আইনের মারপ্যাঁচে এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে দীর্ঘ তিন দশক তাঁকে কাটাতে হলো বন্দী অবস্থায়।

দারিদ্র্যই কি তবে সবচেয়ে বড় অপরাধ?

রাহেলার এই ঘটনা কোনো রূপকথা নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থার এক রূঢ় বাস্তবতা। বিত্তবানদের জন্য যেখানে জামিন বা আপিল সহজলভ্য, সেখানে একজন দরিদ্র নারীর জন্য ৫ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা হয়ে দাঁড়াল ৩০ বছরের কারাবাস। এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইন কি কেবলই গরীবের জন্য কঠোর?

এক নজরে ঘটনাটি:

ভিকটিম: রাহেলা বেগম।

বর্তমান বয়স: ৬৫ বছর।

কারাভোগের সময়কাল: ৩০ বছর।

মুক্তির কারণ: দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া বা সাজা ভোগ শেষ হওয়া।

মূল কারণ: ৫ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা পরিশোধে অক্ষমতা।

রাহেলা বেগম মুক্তি পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর জীবনের হারিয়ে যাওয়া ৩০টি বছর ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য কারোর নেই। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, টাকার অঙ্ক ছোট হলেও এ দেশে “গরীব হওয়া” কত বড় শাস্তি হতে পারে।