
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়া মা কোহিনূর আকতারের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত লিফটের নিচের গর্ত থেকে তার পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে হাসপাতালের লিফট এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে লিফটের নিচের গর্তে একজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে স্বজনদের উপস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩ মার্চ উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনূর আকতার তার ৫ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। শিশুটিকে পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে নামেন কোহিনূর। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার শ্বশুর আলী আকবর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং নিও বলেন, ‘লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ আসায় তল্লাশি চালিয়ে এই মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কীভাবে তিনি সেখানে পড়ে গেলেন, তার কোনো ক্লু এখনো মেলেনি। আমরা পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করছি।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দীন জানান, নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। আজ লিফটের গর্তে কোহিনূরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। লিফটটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল কি না বা এটি কোনো দুর্ঘটনা না কি অন্য কিছু, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, কক্সবাজারের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতালে এমন একটি ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
একজন নারী ৫ তলা থেকে নিচে নামার সময় লিফটের গর্তে পড়ে গেলেন, অথচ চার দিন ধরে কারও নজরে এল না—এটি হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনারই ইঙ্গিত দেয়।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ৪ মার্চ দুপুরে তিনি লিফটে উঠেছিলেন কি না বা তার সাথে অন্য কেউ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে দাবি অনেকের।