কেরানীহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে পাম্পে হাহাকার, বিপাকে সাধারণ মানুষ

মোঃ খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাট এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল ও অকটেন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীহাটের মেসার্স নেজাম উদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনসহ আশপাশের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ লাইন। অনেক পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রধান ফটকে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক ব্যানার টাঙিয়ে সাশ্রয়ী ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশনে টাঙানো ব্যানারে বলা হয়েছে— > “বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল সম্মানিত গ্রাহককে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় না করে স্বাভাবিক ক্রয় প্রক্রিয়া বজায় রেখে সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”

তবে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ একেবারেই নগণ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না চালকরা। এতে করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপর। তেলের অভাবে অনেকে বাধ্য হয়ে গাড়ি বন্ধ রাখছেন, আবার কেউ কেউ বাড়তি দাম দিয়ে খোলা বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী চালকদের ক্ষোভ: কেরানীহাটে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “তিন-চারটি পাম্প ঘুরেও অকটেন পাচ্ছি না। পাম্পের লোকজন বলছে তেল নেই। তেল ছাড়া গাড়ি চালাব কীভাবে? আমাদের রুজি-রুটি সবই এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।”

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, কেরানীহাট একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন হওয়ায় এখানে তেলের চাহিদা অনেক বেশি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে কৃষি মৌসুমে সেচ কাজে ডিজেল সংকটের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরাও।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।