
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় সৃষ্টি হওয়া জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী এক মানবিক ও সেবামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় মেসার্স নেজাম উদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী জনাব নেজাম উদ্দীন। তিনি কেবল ব্যবসায়ী হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে পাম্পে উপস্থিত থেকে গ্রাহকদের সেবাদান এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করছেন।
সরেজমিনে কেরানীহাটের ব্যস্ততম সড়কসংলগ্ন এই ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত গ্রাহকের ভিড় সামলাতে পাম্পের কর্মচারীদের সাথে স্বয়ং মালিক নেজাম উদ্দীনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ডিজেল ও অকটেনের তীব্র সংকটের কারণে অন্যান্য পাম্পে যেখানে গ্রাহকদের হাহাকার ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, সেখানে নেজাম উদ্দীন অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে মালিকের উপস্থিতিতে এক সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে।
জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে পাম্পের সামনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে যে ব্যানারটি টাঙানো হয়েছে, সেটি নিজেই গ্রাহকদের পড়ে শোনাচ্ছেন এবং সাশ্রয়ীভাবে তেল ব্যবহারের অনুরোধ করছেন তিনি। ব্যানারে লেখা হয়েছে:
“বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল সম্মানিত গ্রাহককে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় না করে স্বাভাবিক ক্রয় প্রক্রিয়া বজায় রেখে সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালক এবং সাধারণ গ্রাহক জানান, “এই সংকটের সময়েও নেজাম ভাই নিজে রোদে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের কষ্ট বোঝেন এবং সাধ্যমতো তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওনার ব্যবহার ও ব্যক্তিগত তদারকি আমাদের অনেক স্বস্তি দিয়েছে।” একজন বাস চালক বলেন, “নেজাম ভাইয়ের মতো অন্যান্য পাম্পের মালিকরাও যদি এভাবে দায়িত্ব নিতেন, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেক কমে যেত।”
মেসার্স নেজাম উদ্দীন এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী এবং স্থানীয় সচেতন মহল জনাব নেজাম উদ্দীনের এই পরিশ্রম ও সেবামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলেন, “উনি কেবল মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে পাম্পের শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন।”
এই সংকটের বিষয়ে জনাব নেজাম উদ্দীন বলেন, “বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ কিছুটা কম, যা আমাদের সকলেরই বুঝতে হবে। গ্রাহকদের কষ্ট যেন না হয়, সেজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করছি। সকলের সহযোগিতায় আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠব বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জনাব নেজাম উদ্দীনের মতো সেবাপরায়ণ ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ জনসাধারণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।