
চট্টগ্রাম: নগরীর অভিজাত বিপণিবিতান পুলিশ প্লাজার অদূরে এক ইফতার বিক্রেতা কিশোরের ওপর অমানবিক আচরণের খবর পাওয়া গেছে। মাত্র ১০০ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই কিশোরের পুরো দিনের ইফতার সামগ্রী রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে পুলিশ প্লাজার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পথচারীদের নজর কাড়ে এক কিশোরের আর্তনাদ। দেখা যায়, ১৪-১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রাস্তায় পড়ে আছে এবং তার চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিক্রির জন্য আনা ইফতার সামগ্রী।
ঘটনাটি কেবল দুর্ঘটনা ছিল না। জানা গেছে, ১০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল ওই কিশোরের কাছে। সে দিতে না চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার ব্যবসার পুরো মূলধন ও খাবার নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তথাকথিত ‘ভদ্রবেশধারী’ ব্যক্তিকে অমানবিক আচরণ করতে দেখা যায়, যিনি সহমর্মিতার বদলে উল্টো ওই কিশোরকে রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য ধমকাতে থাকেন।
মানবিক সহায়তা:
ঘটনাটি দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিক ও কলামিস্ট এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি। তিনি কিশোরটিকে তুলে দাঁড় করান এবং নষ্ট খাবারগুলো পরিষ্কার করতে সহায়তা করেন। কিশোরটি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায়, এই ইফতার বিক্রির টাকাই ছিল তার আগামীকালের ব্যবসার একমাত্র মূলধন। পরবর্তীতে উপস্থিত কয়েকজনের সহায়তায় তার তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সচেতন মহলের ক্ষোভ:
ভুক্তভোগী কিশোরের ভাষ্যমতে, “১০০ টাকা দিতে পারিনি বলেই আমার সব খাবার রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।” এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের তথাকথিত উচ্চবিত্ত বা শিক্ষিত শ্রেণির মানুষের এমন নির্মম আচরণ এবং ফুটপাতের ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির এই রূপকে “অমানুষিক” বলে অভিহিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রতিবেদন:
এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি
সাংবাদিক ও লেখক