
দুঃস্থ রোজাদারদের পাশে দাঁড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিবছরের ন্যায় এবারো দেশব্যাপী ‘১ টাকায় রোজার বাজার’ পরিচালনা করছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় প্রতিদিন হাজারো ছিন্নমূল রোজাদারদের ইফতার-সাহরি খাওয়ানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘১ টাকায় বাজার’ এর আয়োজন করছে বিদ্যানন্দ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এই বাজারের উদ্ধোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘অসহায় মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য। বিদ্যানন্দের আজকের এই ‘এক টাকায় রোজার বাজারে’ এসে আমার মনে হচ্ছে শায়েস্তা খাঁর আমল ফিরে এসেছে। অভাবী মানুষ জন এখান থেকে ১ টাকা মূল্য পরিশোধ করে হাজার টাকার অধিক পণ্য বাছাই করার স্বাধীনতা পাচ্ছে। এই আইডিয়া অভাবনীয় প্রশংসার দাবি রাখে। বিদ্যানন্দ থেকে দেখে যদি সমাজের অন্যান্য বিত্তবানেরা মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন তাহলে এই রমজানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নিম্ন আয়ের মানুষজন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজার করছেন। তাদের চোখে মুখে হাসি। কারণ কোন ভিক্ষা নয় মাত্র ১ টাকা দিয়ে তারা নিজেদের পছন্দে হাজার টাকার বাজার করার সুযোগ পেয়েছেন। এই বাজারে দেখা মিলেছে চাল-ডাল, ছোলা, তেল ও ডিমসহ ১৬ রকমের পণ্য। একটি পরিপূর্ণ সুপারশপ। এই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১ কেজি চাল ১ টাকায়, ১ কেজি ছোলা ২ টাকায়, ১ ডজন ডিম দেড় টাকায়, ১ লিটার তেল ৩ টাকায় কিংবা ১টি মুরগী ৪ টাকায়।
যদিও তারা মাত্র ১ টাকা দিয়ে ১০টি টোকেন মানি পান যেটি দিয়ে তারা বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে বাজার করার সুযোগ পান। বাজারের সিস্টেম বুঝিয়ে দিতে পযাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে।
বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান মাসকে বলা হয় ‘সহমর্মিতার মাস’। কেননা এক মাসের রোজা পালনের দ্বারা রোজাদার ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। এর ফলে তার অন্তরে আর্ত-পীড়িত ও ব্যথিত মানব-গোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা জাগে। রোজাদারের উচিত তার এই জাগ্রত সহানুভূতিকে কাজে লাগানো এবং তাদের ব্যথা উপশমে কার্যকরী ভূমিকা রাখা। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও তার স্বেচ্ছাসেবী দাতারা সেই কাজটিই বছরের পর বছর করে যাচ্ছে। আজকেই এই বাজারে ৫ শতাধিক দরিদ্র পরিবার ১ টাকা দিয়ে কমপক্ষে ১ হাজার টাকার নিত্যপণ্য নিয়ে যেতে পারবেন, যা তাদের এই দু:সময়ে একটু হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’