মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার জাল ছিন্ন হোক:  সাংবাদিক আহমেদ কবিরের মুক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা-

-মো.কামাল উদ্দিনঃ

চট্টগ্রামের গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত এক নাম আহমেদ কবির। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। জাতীয় দৈনিক দৈনিক অর্থনীতি-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। সেই কলম কি আজ কারও স্বার্থে বিঘ্ন ঘটিয়েছে? সেই প্রশ্নই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগের আড়ালে অদৃশ্য স্বার্থের সংঘাত

খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় আহমেদ কবিরকে গুরুতর ধারায় আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে চাঁদাবাজি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা। কিন্তু সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে তদন্ত করে যে তথ্য পেয়েছে, তা অভিযোগপত্রের বিবরণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—বাদী মোহাম্মদ সিরাজের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই প্রতারণা ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা আছে। আরও জানা গেছে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, বাদীর কাছে আহমেদ কবিরের পাওনা অর্থ ছিল; সেই পাওনা পরিশোধ এড়াতে এবং চাপ সৃষ্টি করতেই একটি ফৌজদারি মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কারাগারে সাক্ষাৎ: একজন সাংবাদিকের আর্তি

২৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম কারাগারে গিয়ে আহমেদ কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসামূলক। তিনি পলাতক ছিলেন না, তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলেন। তবুও তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে—যা স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একজন কর্মরত সম্পাদক, যিনি নিয়মিত সংবাদপত্রের দপ্তরে উপস্থিত থাকেন, যাঁর স্থায়ী ঠিকানা ও পেশাগত পরিচয় স্পষ্ট—তাঁর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ধারায় মামলা ও গ্রেপ্তার কি প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই করা হলো? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্ন সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয় এটি সমাজের বিবেক। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হলে তা ব্যক্তিগত হয়রানির গণ্ডি ছাড়িয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাতে পরিণত হয়। আজ যদি একজন সম্পাদককে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় কারাগারে পাঠানো যায়, কাল অন্য আরেকজন সত্য উচ্চারণে ভয় পাবেন। এই ভীতির সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। পুলিশের ভূমিকা ও প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা এই মামলায় খুলশী থানার কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাদীর সঙ্গে অসাধু সমন্বয়ের মাধ্যমে মামলাটি দ্রুত রুজু ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ প্রশাসনের সর্বস্তরে এখনও ন্যায়নিষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা আইনকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের পক্ষে নন। তাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। এই মামলার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পুনঃতদন্ত নিশ্চিত করা, বাদীর অতীত কার্যকলাপ ও আর্থিক বিরোধের প্রকৃতি যাচাই করা এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। ন্যায়বিচারের আহ্বান আহমেদ কবির একজন পেশাদার সাংবাদিক, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের সক্রিয় সদস্য এবং গণমাধ্যমে দায়িত্বশীল কণ্ঠ। তাঁর সম্মান, পেশাগত মর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় সমাজের সচেতন মহলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

যদি প্রমাণিত হয় যে মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তবে দায়েরকারী এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এটাই আইনের শাসনের মূল কথা।

আমরা ন্যায়বিচারে আস্থা রাখি। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। আহমেদ কবিরের মুক্তি, সম্মান পুনরুদ্ধার এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এই তিনটি দাবিই আজ সময়ের কাছে ন্যায্য ও যৌক্তিক। মিথ্যার জাল যতই বিস্তৃত হোক, সত্যের আলো শেষ পর্যন্ত তা ছিন্ন করবেই।