​রাজধানীর ৩০০ ফিটে অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিবির অভিযান, নারীসহ আটক ৮৪


নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১-এ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে তাঁর আগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ওই বাড়িটিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাড়া ও ডিজে পার্টির আসর
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কনটেইনার দিয়ে তৈরি বিশেষ কয়েকটি কক্ষবিশিষ্ট বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদকের আসর বসত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইনে বুকিং দিয়ে তরুণ-তরুণীরা ওই আড্ডায় যোগ দিতেন।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে গাঁজা, ইয়াবা ও অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। আটক ৮৪ জনের মধ্যে একজন আফগান নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া বাড়িটির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মাহবুবুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
ভাড়ার অর্থ ও মালিকের সম্পৃক্ততা নিয়ে অভিযোগ
ডিবি সূত্রের বরাtede বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বাড়িটি থেকে আসা আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ পেতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তবে এই আর্থিক লেনদেন ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে স্পষ্ট হবে।
কী বলছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির?
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জহির দাবি করেছেন, তিনি একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। ভাড়াটিিয়ারা তাঁর অগোচরে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকলে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তায় না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, চুক্তিপত্র অনুযায়ী বাড়িটিতে মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল।
তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
অভিযানটি দীর্ঘ সময় ধরে চলা এবং এ ঘটনায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টার গুঞ্জন উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং বাড়িটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল তা জানতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। এদিকে ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে তাঁর পূর্বের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।