সতীশ বাবু লেইনে ভাইরাল হওয়া ছিনতাইয়ের মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতার, নাম একাধিক মামলার আসামী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগের এক বিশেষ অভিযানে নগরীর বহুল আলোচিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছিনতাই ঘটনার মূলহোতা মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ০৬:৪০ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটাস্থ সতীশ বাবু লেইনে একটি অটোরিকশার যাত্রীকে ছোরার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পুরো ঘটনাটি নিকটস্থ সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মূল আসামী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা বিভাগের ‘টিম-৩১’ ঘটনার ওপর ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং মূল জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ১৮:২০ ঘটিকার সময় টিম-৩১-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর শিকলবাহা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট পরিহিত মূল আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সাদ্দামের স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় হলেও সে বর্তমানে কর্ণফুলীর উত্তর শিকলবাহা এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম একজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তার কোনো প্রকাশ্য জীবিকা নেই; ছিনতাই করাই তার মূল পেশা। এর আগেও ২০২৫ সালে টেরিবাজার এলাকায় একই কায়দায় এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে গ্রেফতার হয়েছিল। সে তার সহযোগী মাইন উদ্দিন প্রকাশ বান্ডুর সাথে মিলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

  1. সিএমপি পুলিশ জানায়, সাদ্দামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, দস্যুতা ও দ্রুত বিচার আইনসহ মোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার সহযোগী অন্য আসামীদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।