
অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপেই ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবিবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে ইরানে হামলা চালাতে চাপ দিয়ে আসছিলেন সৌদি যুবরাজ ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
চারটি সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন সৌদি যুবরাজ। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাকে তিনি তার দেশের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন।
এমন সময় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হামলার জন্য চাপ বাড়ানো হয়, যখন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের নেতাদের সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি নেতা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপে সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন ইরানের বিরুদ্ধে আঘাত না করে তাহলে পরবর্তী সময়ে তারা আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক অবস্থায় ফিরে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ওয়েশিংটন পোস্টের খবর অনুসারে, নিজ দেশের তেল অবকাঠামো রক্ষা করতে চাইছিল সৌদি নেতৃত্ব। তারা তেহরানকে শেষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেয়।
হামলার পর ইরান ইসরায়েল-সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালিয়েছে। সৌদি আরব ইরানের আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট