পর্যটন সেবায় অনন্য মাইলফলক: এক বছরে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের বিশাল সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক,  | ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে গত এক বছরে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কয়েকশত অপরাধীকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরাধ দমন ও গ্রেপ্তার

ট্যুরিস্ট পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক বছরে পর্যটন এলাকা থেকে ৩৫ জন ছিনতাইকারী এবং ৮৮ জন ভাসমান অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটকসহ উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। ইভটিজিং ও পর্যটক হয়রানির অভিযোগে আরও ১১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মানবিক পুলিশিং ও উদ্ধার তৎপরতা

গত এক বছরে ট্যুরিস্ট পুলিশের সবচেয়ে প্রশংসনীয় কাজ ছিল হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্র সৈকতে হারিয়ে যাওয়া ২৫৭ জন শিশুকে (১৩৫ জন ছেলে ও ১২২ জন মেয়ে) উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ হওয়া ১৬ জন শিশু ভিকটিম ও ২১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ জন পর্যটককে।

মালামাল উদ্ধার ও প্রতারণা রোধ

পর্যটকদের হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ৩৯টি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে:

রাশিয়ান ও জার্মান পর্যটকদের সহায়তা: রাশিয়ান পর্যটক মিস মনিকা কবিরের হারানো হ্যান্ডব্যাগ উদ্ধার এবং এক জার্মান নাগরিককে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করে দোষী হোটেল কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

টিকিট জালিয়াতি: সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকিট জালিয়াতি চক্রের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা: পর্যটকদের গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে টিকটকে প্রচারের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষা

অসামাজিক কার্যক্রম রোধে বিভিন্ন স্পা সেন্টার ও লাইট হাউজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি গোপন সুড়ঙ্গ পথের সন্ধানও পায় পুলিশ। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পঁচা মাছ বিক্রির বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে।

স্বীকৃতি ও উন্নয়ন

ট্যুরিস্ট পুলিশের এই নিরলস সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজার ট্যুরিজম বিজনেস সোসাইটির পক্ষ থেকে পুলিশকে সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের ২ জন নারী সদস্য ‘উইমেন ট্যুরিজম লিডার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন। সেবার মান বাড়াতে সৈকতে ১০টি হুইল চেয়ার প্রদান ও সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তাদের এই কঠোর নজরদারি ও সেবা কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।