
ফুলকি দাস ওহাগড়া প্রতিনিধি
পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং মানবিক আচরণেরমানবিক সংমিশ্রণ ঘটলে যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড থানায় কর্মরত থাকলেও, লোহাগাড়া থানায় তাঁর কাটানো সময়কাল নিয়ে এখনো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে প্রশংসা। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন লোহাগাড়ার সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন— “আতিক স্যার থাকলে অপরাধীরা পার পেত না।”
কেন তিনি ব্যতিক্রম?
লোহাগাড়া থানার সাবেক এই কর্মকর্তার জনপ্রিয়তা কোনো চটকদার প্রচারণার কারণে নয়, বরং তাঁর কাজের ধরনের জন্য। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনে কাজ করেছে চারটি মূল স্তম্ভ:
লেজুড়বৃত্তিমুক্ত সেবা: লোহাগাড়ার মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় প্রভাবশালী নেতার ফোন বা দলীয় সুপারিশের তোয়াক্কা না করে আইনের সঠিক প্রয়োগে তিনি ছিলেন আপসহীন। থানাকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ‘কাছারি ঘর’ হতে দেননি তিনি।
হয়রানি ও ‘গায়েবি’ মামলা নিরসন: তাঁর সময়কালে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা বা সাজানো মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা ছিল নগণ্য। রাজনৈতিক চাপে ‘পকেট মামলা’ বা হয়রানিমূলক ধরপাকড় না হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে থানা ছিল একটি নিরাপদ আশ্রয়।
মাদক ও সন্ত্রাসে জিরো টলারেন্স: ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। তবে অপরাধী দমনে কঠোর হলেও, কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে ধরে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে কখনোই ওঠেনি।
আচরণগত উৎকর্ষ: সাধারণ ভিকটিমদের সাথে সম্মানজনক ব্যবহার এবং মনোযোগ দিয়ে সমস্যার কথা শোনার অভ্যাসের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের পরম বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন।
লোহাগাড়ার বর্তমান বাস্তবতা ও জনমানুষের আক্ষেপ
সম্প্রতি লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি, ডাকাতি এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে সাধারণ মানুষকে বলতে শোনা যায়, “আতিক স্যারের সময় এসব অপরাধ করার সাহস কেউ পেত না।” উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্টের পর দেশের অনেক থানায় যখন পুলিশের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখনো আতিকুর রহমানের কর্মকালীন রেকর্ড নিয়ে লোহাগাড়ার মানুষ নেতিবাচক কোনো অভিযোগ তোলেনি। বরং “কারো হয়রানির শিকার না হওয়া” তাঁর জন্য এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
উপসংহার
দিনশেষে সাধারণ মানুষ কোনো দল বা মতের তোয়াক্কা করে না; তারা চায় শান্তি এবং নিরাপত্তা। লোহাগাড়া থানার সাবেক ওসি আতিকুর রহমান প্রমাণ করেছেন, নিরপেক্ষতা এবং মানবিক আচরণ বজায় রাখলে বদলি হয়ে যাওয়ার পরও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে টিকে থাকা সম্ভব। বর্তমানে ইপিজেড থানায় কর্মরত এই কর্মকর্তার কর্মপন্থা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে