অফিস সহকারী হয়েও রাজস্ব কর্মকর্তার পরিচয়ে অনিয়ম: আগ্রাবাদ ভূমি অফিসের অরুণ মল্লিক সন্দ্বীপে বদলি ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ সার্কেল ভূমি অফিসে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে থেকেও রাজস্ব কর্মকর্তার পরিচয়ে ক্ষমতা অপব্যবহার ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে অরুণ কান্তি মল্লিককে সন্দ্বীপ উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দুর্নীতির ফিরিস্তি ও সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসনিকভাবে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।

রাজস্ব কর্মকর্তার পরিচয়ে অবৈধ প্রভাব বিস্তার:

অনুসন্ধানে জানা যায়, অরুণ মল্লিক মূলত অফিসের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেকে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতেন এবং দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করতেন। বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে পুরো অফিসে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অতীতে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মূল অভিযোগসমূহ:

অফিস সহকারী হয়েও রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে অবৈধভাবে ক্ষমতা পরিচালনা ও প্রভাব বিস্তার।

নামজারি ও ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি ফাইলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য।

নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেট মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা।

ভূমিমন্ত্রীর নাম ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে রাখা।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই সার্কেলে থেকে প্লট-ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ।

সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্য:

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সেবাগ্রহীতা আবছার, জয়নাল আবেদীন ও লিয়াকত আলী ইতিপূর্বে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছিলেন যে, আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে সাধারণ কাজ বা নামজারি সংক্রান্ত কাজে গেলে অরুণ মল্লিকের ছত্রছায়ায় থাকা সিন্ডিকেটের সদস্যরা দুর্ব্যবহার করতেন এবং টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়তো না। এসিল্যান্ডের সাথে দেখা করিয়ে দেওয়ার নামেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

গণমাধ্যমে প্রকাশ ও বদলি:

গত ৫ আগস্ট প্রথম সারির বিভিন্ন দৈনিকে এবং সংবাদমাধ্যমে “প্রতি ফাইলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে নড়ে না ফাইল: আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ভূমি সেবাগ্রহীতারা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় দাপ্তরিক আদেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থল আগ্রাবাদ সার্কেল ভূমি অফিস থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়।

সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত এ ধরনের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শুধু বদলি নয়, বরং তাদের পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা অপoperations ও দুর্নীতির দায়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।