সাতকানিয়ায় মিনিবাস-সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ে নিহত: বাস পোড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে হামলা

আবুল মোবিন (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও দুই বছরের শিশু কন্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং অস্ত্র লুটের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এছাড়া দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাইর-বর বাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) এবং তার দুই বছরের মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগামী মিনিবাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার হোসেন ও তার শিশুকন্যা ওয়াসিফা নিহত হন। এ সময় দেলোয়ারের স্ত্রী ও ছেলেসহ আরও চারজন আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বাসটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

এরপর সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং অস্ত্র লুটের চেষ্টা চালায়। তাছাড়া আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাদেরও ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আবছার জানান, মিনিবাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ে নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন দেয়। হাইওয়ে পুলিশের টিম পৌঁছালে তাদের ধাওয়া করা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।