আনোয়ারায় দৃশ্যমান ৩৫০ কোটি টাকার স্থায়ী বেড়িবাঁধ: উপকূলবাসীর আশার আলো, টেকসই নির্মাণের দাবি

মোঃ হাসমত আলী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় জনপদ রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে বহুল প্রতীক্ষিত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি প্যাকেজে ৫ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও তীর সংরক্ষণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে রায়পুর ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে এক কিলোমিটার বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে বছরের পর বছর জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে থাকা উপকূলীয় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি বাঁধের গুণগত মান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প দুটি তদারকি সংস্থার অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চারটি প্যাকেজে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অপর চারটি প্যাকেজে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রায়পুর ইউনিয়নে ২ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা ও বাঁধ সংরক্ষণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা, বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাউবো সূত্র আরও জানায়, আনোয়ারা উপজেলায় মোট ৪৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে নদী তীরে ৮ কিলোমিটার এবং সমুদ্রতীরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাঁধ আগে থেকেই সুরক্ষিত। বর্তমানে চলমান কাজের পাশাপাশি নদী তীরে প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং সমুদ্রতীরে ২ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি রায়পুরসহ আনোয়ারার উপকূলীয় বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে কাজ শেষ করা এবং নির্মাণের শতভাগ মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, উপসচিব, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বেড়িবাঁধ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করলেও কাজের শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়ে দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রায়পুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দীন আনোয়ারী বলেন, “আমরা উপকূলবাসী স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। অতীতেও বেড়িবাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান প্রকল্পের কয়েকটি প্যাকেজ নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে বাঁধের মান নিশ্চিত করতে হবে, যেন তা টেকসই হয়।”
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আনোয়ারা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক জানান, “রায়পুর ইউনিয়নের ২ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই এক কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই সব কাজ সফল ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।”