নারীদের ঘরে আটকে রাখার রাজনীতি দেশের জন্য অশনিসংকেত: তারেক রহমান

নারীদের ঘরে আটকে রাখার রাজনীতি দেশের জন্য অশনিসংকেত: তারেক রহমান

 অনলাইন ডেস্ক

বেলস পার্ক মাঠে বুধবার দুপুরের রোদে মানুষের ভিড় জমেছিল অনেক আগেই। বেলা ঠিক সাড়ে ১২টার কিছু পরে মঞ্চে উঠতেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা। প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দিলেন, তারপর শুরু করলেন দীর্ঘ বক্তব্য।

মূল সুর একটাই, নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আর রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।

কারো নাম সরাসরি না করেই তারেক রহমান অভিযোগ তুললেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। তার ভাষায়, ‘সেই দলের এক নেতা প্রকাশ্যেই বলেছেন, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না।’ জনসভায় এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। ইঙ্গিত স্পষ্ট, যদিও তিনি দলটির নাম উচ্চারণ করেননি। বক্তব্যে আরো কড়া হন বিএনপির চেয়ারম্যান।

বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মসংস্থানে যাওয়া নারী ও মা-বোনদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা লজ্জাজনক।’ তার মতে, এই মন্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।

তারেক রহমানের অভিযোগ, যে দলটি সকাল-বিকাল জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, নারীদের হেয় করছে, তারাই এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কারণ মানুষ তাদের কথাবার্তা আর কাজকর্মের ফাঁকফোকর ধরে ফেলেছে। সে কারণেই দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

বক্তৃতার একপর্যায়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী আজ দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন।’ এই দ্বিচারিতাই তার মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক।

ধর্মীয় উদাহরণ টেনে তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। এরপর প্রশ্ন তোলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের ভেতর বন্দি রাখতে চায়, অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করে, তারা ক্ষমতায় এলে নির্বাচন-পরবর্তী আচরণ কেমন হতে পারে।’

সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের মন্তব্য নিয়ে যখন সমাজজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখন সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কথা নয়।’ তার কটাক্ষ, ‘এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী। নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে তারা দ্বিধা করে না, আর দেশদরদি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে আরো সরাসরি আক্রমণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, ‘দলটি ধর্মকে ব্যবহার করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ধর্মের ব্যাখ্যাও নিজেদের মতো করে নেয় তারা।’

বক্তব্যের শেষদিকে ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার অন্তত অর্ধেক নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনো বড় পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না।’

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। সেই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য, যাতে নারী সমাজ কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।