
অনলাইন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের ১২টি নির্বাচনের মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ প্রথম দিন থেকেই সরকার পরিচালনা করবে, তবে পাশাপাশি ১৮০ দিন এটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলী রীয়াজ বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতে অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মতো নয়। কারণ, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-ভুত্থানের পটভূমিতে। যারা একে অতীতের মতো সাধারণ মনে করছেন, তারা ভুল করছেন। যদি রাজনীতির বিশ্লেষক ও দলগুলো এই পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝতে না পারে, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর পিছিয়ে যাবে কি না–এমন বিভ্রান্তি দূর করে তিনি বলেন, “সংসদ সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করলে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা তৈরি হবে–এমন ধারণা মোটেই সঠিক নয়। সংসদ প্রথম দিন থেকেই নির্বাচিত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক কার্যাবলি যেমন: সরকার গঠন, দেশ পরিচালনা ও বাজেট তৈরির কাজ করবে। তবে বিদ্যমান সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরিয়ে আনতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ করবেন।’
অধ্যাপক রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও গণতন্ত্রায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বাইরে থেকে চাপ দিয়ে কোনো দলের সংস্কার সম্ভব নয়, এটি দলের ভেতর থেকে আসতে হবে। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অসামান্য অবদান থাকলেও সংসদে তাদের আসন ১০০-তে উন্নীত করা এবং ৫ শতাংশ সরাসরি মনোনয়নের বিষয়ে অনেক দলই এখনও ঐকমত্যে আসেনি। তিনি দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কারের এই অঙ্গীকারগুলো পুনরায় স্পষ্টভাবে প্রকাশের আহ্বান জানান।