সরকারের ‘সততা’ বনাম বাজারের বাস্তবতা: সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে এক গ্রাহকের বিচিত্র অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে অদ্ভুত এক গাণিতিক হিসাব এবং তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ক্রেতা। সরকারের নির্ধারিত দাম এবং বাজারের প্রকৃত দরের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি রসালো অথচ চিন্তাশীল অভিজ্ঞতা সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।

গাণিতিক হিসাব: ১০ টাকার ‘সততা’

ঘটনার সূত্রপাত একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান থেকে। বর্তমান বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে ১৯৪০ টাকা। দোকানে বসে অপেক্ষা করার সময় ওই ক্রেতার মাথায় আসে এক “মেধাবী” চিন্তা। তার মতে:

সরকার চাইলেই এই দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫০ টাকা করতে পারত।

যদি প্রতি মাসে দেশে ১ কোটি সিলিন্ডার বিক্রি হয়, তবে মাত্র ১০ টাকা বৃদ্ধিতেই অতিরিক্ত আয় হতো ১০ কোটি টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, বছরে এই অংক গিয়ে দাঁড়াতো ১২০ কোটি টাকায়!

ক্রেতার ভাষায়, “সরকার কতটা সৎ হলে রাউন্ড ফিগার করার লোভ সামলে জনগণের জন্য ১৯৪০ টাকাই নির্ধারণ করেছে! আমরা সমালোচনা করলেও এই যুক্তিভিত্তিক প্রশংসা করা উচিত।”

বাস্তবতার ‘থাপ্পড়’: এক দাম ২০০০!

তবে সেই গাণিতিক প্রশংসা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দোকানের মালিক আসতেই ক্রেতা যখন এক বোতল গ্যাস চাইলেন, তখন সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়। সরকারি নির্ধারিত ১৯৪০ টাকার তোয়াক্কা না করে মালিক সাফ জানিয়ে দেন:

“গ্যাস নিবেন ঠিক আছে, কিন্তু এক দাম ২০০০ টাকা। নিলে নেন, না নিলে নাই!”

পর্যবেক্ষণ

এই ঘটনাটি মূলত দেশের বাজার ব্যবস্থাপনার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। একদিকে সরকার নির্ধারিত দামের ক্ষুদ্র অংকের হিসাব দিয়ে নীতিনির্ধারকদের ‘সততা’ প্রমাণের চেষ্টা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা। ক্রেতার সেই ১২০ কোটি টাকার দুর্নীতির থিওরি শেষ পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতার অতিরিক্ত ৬০ টাকার (২০০০ – ১৯৪০ = ৬০) কাছে হার মেনেছে।

জনসাধারণের প্রশ্ন: সরকার নির্ধারিত দাম যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকরই না হয়, তবে সেই দাম নির্ধারণের সার্থকতা কোথায়?