সীতাকুণ্ডে পাহাড়ের সরকারি গাছ উজাড়: ‘সন্ত্রাসী’ মুসার তাণ্ডবে দিশেহারা এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক,

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও বনের গাছ কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা জনৈক ‘মুসা’ নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই বন নিধন যজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধা দিতে গেলে এলাকাবাসীর ওপর অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি বর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

ঘটনার বিবরণ:

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা সংলগ্ন কাশবন ও তৎসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার সরকারি গাছগুলো দীর্ঘ দিন ধরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে মুসা ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্ত মুসার বাড়ি হাটহাজারী এলাকায় হওয়ায় তাকে সচরাচর এলাকায় পাওয়া যায় না। তবে তার নিয়োগকৃত পাহাড়াদার ও শ্রমিকরা দিনরাত নির্বিচারে গাছ কেটে ট্রাকে করে পাচার করছে।

অস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলি বর্ষণ:

সর্বশেষ গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে এই বন নিধন বন্ধের চেষ্টা করলে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ভোরে পাহাড়ের ভেতর গাছের গাড়ি আটকাতে গেলে মুসার লোকজন প্রথমে তাদের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়। স্থানীয়রা অনৈতিক এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে এলাকাবাসী পালিয়ে আসার সময় পিছন থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অসহায় এলাকাবাসী:

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, মুসা নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সন্ত্রাসী হিসেবে জাহির করায় সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। ভোরে বা গভীর রাতে যখন গাছগুলো পাচার করা হয়, তখন বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন:

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা বলছেন, এখনই যদি এই চক্রকে থামানো না যায়, তবে সীতাকুণ্ডের এই পাহাড়ি বনাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে।