নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ১০ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এক পুরুষ স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে দুই সিনিয়র নারী সহকর্মীকে শারীরিক হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ মার্চ নগরের ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে ইপিআই (টিকাদান) কার্যক্রম চলাকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের নাম আমরুল আমিন আরাফাত।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন চান্দগাঁও থানাধীন ওসমানিয়া পুল সংলগ্ন “মুসলিম তরুণসংঘ” ক্লাবে সাপ্তাহিক টিকাদান কর্মসূচি চলছিল। ভুক্তভোগী দুই নারী স্বাস্থ্য সহকারী ফাতেমা বেগম ও পারভীন আক্তার দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে চসিকে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, কর্মস্থলে যোগদানের প্রথম দিনেই অভিযুক্ত আরাফাত শৃঙ্খলার অজুহাতে নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন।
এক পর্যায়ে তিনি এক নারী কর্মীর ব্যক্তিগত স্থানে হাত দিয়ে জোরপূর্বক টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় অন্য এক নারী সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে এমন অশালীন ঘটনায় উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অবরুদ্ধ ও শর্তসাপেক্ষে মুক্তি
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা ও ক্লাব সদস্যরা অভিযুক্ত আরাফাতকে আটক করে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসার কথা থাকলেও তাৎক্ষণিক কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে চসিকের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এবং ভুক্তভোগীদের অনুরোধে বিকেল ৫টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য: > “চাকরি জীবনে দীর্ঘ আড়াই দশকে এমন অপমানের শিকার কখনো হইনি। নতুন একজনের এমন দুঃসাহস আমাদের স্তম্ভিত করেছে। আমরা মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং যথাযথ বিচার চাই।”
অভিযুক্তের হুমকি ও প্রশাসনের নীরবতা
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমরুল আমিন আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সরাসরি সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়ে প্রতিবেদককে হুমকি প্রদান করে বলেন, “যারা এসব নিউজ করেন তারা ভুয়া সাংবাদিক।”
অন্যদিকে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের কাপাসগোলা জোনের প্রধান মেডিকেল অফিসার তপন চক্রবর্তীর সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চসিকের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মীর এমন বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। ভুক্তভোগীরা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে বিচার না পেলে তারা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।