মো. কামাল উদ্দিন
(লেখক, গবেষক, কলামিস্ট ও বিশ্বভ্রমণকারী)
প্রতিবছর ১২ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক নার্স দিবস’। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং হাসপাতালের করিরেডোর থেকে যুদ্ধক্ষেত্র—সর্বত্র নিরলস সেবা দিয়ে যাওয়া নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। আধুনিক নার্সিংয়ের পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল: একটি বিপ্লবের নাম
১৮২০ সালে ইতালির এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নিয়েও ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল বেছে নিয়েছিলেন মানবসেবার কণ্টকাকীর্ণ পথ। তৎকালীন সমাজে নারীদের জন্য নির্ধারিত বিলাসিতা ও ঘরোয়া গণ্ডি ভেঙে তিনি নার্সিংকে একটি বৈজ্ঞানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তর করেন।
১৮৫৪ সালের ক্রিমিয়ান যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হাসপাতালে মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা সৈন্যদের মাঝে তিনি শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনেন। রাতের আঁধারে হাতে লণ্ঠন নিয়ে রোগীদের সেবা করার কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে “The Lady with the Lamp” বা ‘লণ্ঠনধারী মহীয়সী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
পেশা নয়, একটি মানবিক দর্শন
নার্সিং কেবল ওষুধ প্রয়োগ বা চিকিৎসকের নির্দেশ পালন নয়; এটি রোগীর মানসিক ভরসা ও সাহসের নাম। আইসিইউ-এর কঠিন নীরবতা থেকে শুরু করে অতিমারি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নার্সরাই স্বাস্থ্যব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নার্সদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই হওয়া অসম্ভব।
বাংলাদেশ বনাম বিশ্ব প্রেক্ষাপট: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার ফারাক
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, নার্সিং পেশার গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী অনস্বীকার্য হলেও বাংলাদেশে এই পেশার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।