ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর ৭ দফা পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:

সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদ ও মাদরাসায় যৌন হয়রানির কিছু অভিযোগ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও একগুচ্ছ পরামর্শ তুলে ধরেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন।

অপরাধের বিচার বনাম মিডিয়ার ভূমিকা

শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর পর্যবেক্ষণের শুরুতেই বিষয়টি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন:

শিক্ষকরাও মানুষ: আলেম ও শিক্ষকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ, তারা কেউ ফেরেশতা নন। তাদের মধ্যেও মানবিক কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তির তাড়না থাকা স্বাভাবিক। তাই লাখো শিক্ষকের মধ্যে দু-একজনের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুরো সমাজ বা ব্যবস্থার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো চমকানো যুক্তিযুক্ত নয়।

মিডিয়ার অতি-উৎসাহ: সচরাচর আলেম-ওলামাদের দ্বারা অপরাধের হার অত্যন্ত কম। তবে কিছু মিডিয়া চমক সৃষ্টি ও ভিন্নধর্মী সংবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ইসলামি লেবাসধারী কারও নেতিবাচক খবর পেলে তা বিশেষভাবে হাইলাইট করে। অনেক ক্ষেত্রে বামপন্থী মনোভাবের কারণে কিছু সংবাদে রঙ চড়িয়ে বা তিলকে তাল করে প্রচার করা হয়।

তবে এই বাস্তবতার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি অস্বীকার করেননি। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি ৭টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন।

সুরক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ৭ দফা পরামর্শ:

যৌন ক্যালেঙ্কারি ও হয়রানি থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত রাখতে তিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দেন:

বিবাহিত ও বয়স্কদের নিয়োগ: মসজিদ ও মাদরাসার স্টাফ নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বিবাহিত’ এবং ‘যথেষ্ট বয়স্ক’ হওয়ার শর্ত আরোপ করতে হবে। একই সাথে কর্মস্থলেই তাদের জন্য পারিবারিক আবাসন বা ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

মকতবগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং: সচরাচর মসজিদের মকতবগুলোতে কোনো প্রশাসনিক মনিটরিং থাকে না। শিক্ষক একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই মকতবগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষক খারাপ প্রকৃতির হলে বড় দুর্ঘটনার আগেই তা ধরা পড়ে।

আবাসিক মাদরাসায় কঠোর নীতিমালা: সব ধরনের আবাসিক মাদরাসার সকল বিভাগ সম্পূর্ণ সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য আচরণ-সম্পর্কিত কঠোর নীতিমালা (Code of Conduct) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

পৃথক খাটিয়া বা বেডের ব্যবস্থা: আবাসিক মাদরাসাগুলোতে কোনোভাবেই ঢালাও বিছানা (একত্রে মেঝেতে ঘুমানো) সিস্টেম রাখা যাবে না। প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আবশ্যিকভাবে পৃথক খাটিয়া বা বেডের ব্যবস্থা করতে হবে।

শ্রেণীকক্ষ ও আবাসন পৃথকীকরণ: মাদরাসার শ্রেণীকক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা (আবাসন) কোনোভাবেই এক সাথে রাখা যাবে না, দুটি সম্পূর্ণ পৃথক হতে হবে।

শিক্ষকদের পারিবারিক আবাসন: মাদরাসার শিক্ষকদের সপরিবারে থাকার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত সম্মানীর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

মহিলা মাদরাসায় পুরুষ স্টাফ নিষিদ্ধ: বালিকা বা মহিলা মাদরাসায় কোনো অবস্থাতেই পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তার জন্য কেবল একজন বৃদ্ধ পুরুষ প্রহরী রাখা যেতে পারে। পুরুষ অভিভাবক বা আগন্তুকরা কেবল ওই প্রহরীর মাধ্যমেই যোগাযোগ করবেন এবং যাবতীয় লেনদেন শিক্ষার্থী বা প্রহরীর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মডেল অনুসরণ করার আইডিয়া দেন।

“কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অর্থের অভাবে এসব নিরাপত্তা ও নিয়মাবলীর আয়োজন করতে না পারে, তবে তাদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা অনুচিত।”

শায়খ আহমাদুল্লাহ