
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এরই অংশ হিসেবে সিএমপির ট্রাফিক-বন্দর বিভাগের উদ্যোগে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) আবু সাঈদ বাকারের উপস্থিতিতে মইজ্জারটেক মোড়ে যানবাহন চালক ও মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি দিকনির্দেশনামূলক ব্যানার স্থাপন করা হয়। সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার (টমটম) অনিয়ম ঠেকাতে সিএমপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যানারে সিএমপির স্পষ্ট নির্দেশনা ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
টোকেন বাণিজ্য নিষিদ্ধ: পুলিশের নাম ব্যবহার করে সিএনজি কিংবা অটোরিকশায় টোকেন বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর সাথে পুলিশের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। কোনো গাড়িতে টোকেন প্রদর্শন করা হলে বা টোকেন বাণিজ্যে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট গাড়িটি তাৎক্ষণিক আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা: নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করা এবং নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রেখে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমানা লঙ্ঘন: গ্রামীণ এলাকার সিএনজি এবং ‘অন টেস্ট’ (On Test) সিএনজি অটোরিকশা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রবেশ করলে গাড়িটি সরাসরি আটক করা হবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও উল্টো পথ: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মূল সড়কে প্রবেশ করলে, উল্টোপথে চললে কিংবা ব্রিজে ওঠার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) আবু সাঈদ বাকার বলেন:
”সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আমরা এই সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন করেছি। কিছু অসাধু চক্র পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সিএনজিতে টোকেন বাণিজ্য করার চেষ্টা করে, যার সাথে ট্রাফিক পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ আগামীতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালক ও মালিকদের আইন মেনে চলার এবং সাধারণ যাত্রীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।