চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও চউক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীণ “শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে” (লালখান বাজার হতে শাহ্-আমানত বিমানবন্দর) প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত নেতিবাচক প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকবৃন্দ এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত তথ্যগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও চউক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবাদ জানান।

‘উন্নয়নের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা’

সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের এই মেগা প্রকল্পের সুফলকে আড়াল করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সাধারণ নগরবাসীর বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ নয়।

প্রতিবাদে নাগরিকরা তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরেন:

ভোগান্তি ও যানজট নিরসন: এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা নিয়ে তোলা প্রশ্ন অবাস্তব। এই প্রকল্পের ফলে পতেঙ্গা, বিমানবন্দর এবং টানেলমুখী যাতায়াতের সময় ও চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি আশাতীতভাবে কমেছে।

র‍্যাম্প ও পরিকল্পিত নকশা: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে সংযুক্ত করার লক্ষ্যেই র‍্যাম্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বদলে দেবে।

সাময়িক দুর্ভোগ বনাম উন্নয়ন: যেকোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় সাময়িক কিছু জনদুর্ভোগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেটিকে পুঁজি করে পুরো একটি রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্পকে ব্যর্থ বা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

টোল আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: চউক

এদিকে এক্সপ্রেসওয়ের টোল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে চউক কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের প্রকৃত ব্যাখ্যায় জানানো হয়:

স্বচ্ছ টোল ব্যবস্থাপনা: গত ০৩/০১/২০২৫ খ্রি. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা কর্তৃক টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধনের পর থেকে এটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। টোল আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি চউকের সিস্টেম অ্যানালিস্টের দপ্তর থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয়।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ সংরক্ষণ: চউকের চেয়ারম্যান, সচিব ও সিস্টেম অ্যানালিস্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টোল আদায় কার্যক্রম চলছে। সংগৃহীত যাবতীয় অর্থ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী Eastern Bank PLC-এর অ্যাকাউন্টে জমা ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

রাজস্বের চিত্র: বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,৭০০টি যানবাহন এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৬,১৬,০০০/- (ছয় লক্ষ ষোল হাজার) টাকা টোল সংগ্রহ হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতাহীনতা: টোল আদায়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি চউকের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত। এর সাথে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে তাদের জড়িয়ে টোল চুরির অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও চউক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সত্য ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে এই সঠিক তথ্যগুলো তুলে ধরে সাধারণ পাঠকদের বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।