নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতকানিয়া:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ডেমশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী ঢেমশা ক্ষেত্রপাল মন্দিরে এক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে নারায়ণ ও শালগ্রাম প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২রা আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) শুভলগ্নে ভূমির মালিক পক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট সুজন পালিত এই নারায়ণ প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে এদিন পবিত্র নারায়ণ পূজার শালগ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভৈরব পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন মন্দিরের পূজারী পণ্ডিত রাজু চক্রবর্তী।
জানা যায়, ১৯৯০ সালের একটি ঐতিহাসিক আপোষনামার মর্ম অনুযায়ী গঠিত ক্ষেত্রপাল পূজা কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই মন্দিরের সার্বিক কার্যক্রম ও পূজা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে ভূমি মালিক পক্ষের ডেলিগেট ক্ষমতাবলে সমাজসেবক যিশু চৌধুরী সভাপতি, আইনজীবী সহকারী তপন দাশ সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ইউ.পি মেম্বার রতন দাশ অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সুচারু নেতৃত্বে এই পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ও মন্দির প্রাঙ্গণের শৃঙ্খলা বজায় রাখা হচ্ছে।
মন্দিরে নারায়ণ প্রতিষ্ঠা ও নতুন দ্বার উন্মোচন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সুজন পালিত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজ বুধবার, পরম করুণাময়ের অপার কৃপায় শুভলগ্নে আমাদের এই নতুন মন্দিরের দ্বার উন্মোচিত হলো। এই পবিত্র স্থানটি কেবল ইট-পাথরের কোনো কাঠামো নয়, এটি আমাদের ভক্তি, বিশ্বাস এবং ঐশ্বরিক আশ্রয়ের প্রতীক। সকলের মঙ্গল ও শান্তির জন্য ঈশ্বরের চরণে এই মন্দির সমর্পণ করলাম।”
উল্লেখ্য, প্রতি বাংলা সনের চৈত্র সংক্রান্তিতে (বছরের শেষ দিনে) এই শ্রী শ্রী ঢেমশা ক্ষেত্রপাল মন্দিরে মহা সাড়ম্বরে বাৎসরিক ক্ষেত্রপাল পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে, যা এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়। আজ নতুনভাবে নারায়ণ ও শালগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মাঝে এক নতুন আনন্দ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।