লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জাধীন সাতগড় বনবিটে একদল বনখেকো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রত্যক্ষ যোগসাঁজশ রয়েছে সাতগড় বনবিটের ফরেস্টগার্ড (এফজি) সালাহউদ্দিন খন্দকারের।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সাতগড় বনবিটে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে এলাকার চিহ্নিত গাছ চোর চক্রের সঙ্গে ফরেস্টগার্ড সালাহউদ্দিন খন্দকারের একটি নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ বনখেকো চক্রটি গভীর রাতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করছে এবং গর্জন, গামারিসহ নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে। পাহারায় থাকা বনকর্মীর পরোক্ষ গ্রিন সিগন্যাল থাকায় নির্বিঘ্নে এই বনভূমি উজাড়ের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের আঁধারে যখন বনের গাছ কাটা হয়, তখন বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। ফরেস্টগার্ড সালাহউদ্দিন খন্দকারের মদদেই এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় যার দায়িত্ব, তিনিই যদি চোরদের পথ দেখিয়ে দেন, তবে বন বাঁচবে কীভাবে?
বনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি মূল্যবান সম্পদ এভাবে হরিলুট হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল। তারা জানান, দ্রুত এই গাছ চুরির সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে চুনতি অভয়ারণ্য ও আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল একসময় সম্পূর্ণ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ফরেস্টগার্ড সালাহউদ্দিন খন্দকারসহ গাছ চুরির সাথে জড়িত পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।