অপপ্রচার ছাপিয়ে সাংবাদিকদের ঐক্যের বার্তা: ইফতারের টেবিলে মূলধারার কলম সৈনিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ১৯ মার্চ, ২০২৬

পবিত্র রমজানের সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধের আবহে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ এক অনন্য ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পেশাগত মর্যাদা ও সংহতির এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বিশেষ করে প্রবীণ সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীকে ঘিরে সৃষ্ট সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক ও অপপ্রচারের মুখে এই আয়োজন চট্টগ্রামের মূলধারার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের এক ‘নীরব ঘোষণা’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ষড়যন্ত্র ছাপিয়ে সম্প্রীতির জয়

অনুষ্ঠানটি সফল হওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে নানা বিভ্রান্তি ও বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। নির্দিষ্টভাবে সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর উপস্থিতি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও অপপ্রচারের পরিবেশ তৈরি করা হয়। তবে ইন্টারন্যাশনল কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, কোনো পেশিশক্তি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের বন্ধন ছিন্ন করতে পারেনি।

তিন দশকের লড়াই ও বন্ধুত্বের বয়ান

অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “রিয়াজ হায়দার চৌধুরী কেবল একজন সাংবাদিক নন, তিনি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের এক নির্ভীক সেনানী। আমাদের পরিচয় ১৯৯২ সাল থেকে। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামের প্রথম দিককার ফোর-কালার ম্যাগাজিন ‘চট্টল চিত্র’ প্রকাশের সময় থেকে শুরু করে নাগরিক আন্দোলনের রাজপথ—সর্বত্র আমরা এক সাথে চলেছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি এবং জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলনে রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্বের খাতিরেই বারবার তার সংগ্রামের কথা ইতিহাসে স্থান পাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার তৃণমূল

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার বর্তমান পরিবর্তন ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে কিছু গোষ্ঠী সাংবাদিকতাকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবের সদস্যপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। কিন্তু সাংবাদিকতার প্রকৃত পরিচয় ক্লাবের কার্ডে নয়, বরং সততা ও কলমের শক্তিতে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত মো. কামাল উদ্দিন, যিনি সাতজন নোবেলজয়ী এবং সৌদি রাজকন্যার সাক্ষাৎকার নেওয়ার মতো বিরল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তিনি বলেন, “সাংবাদিকতার মর্যাদা আসে অধ্যবসায় ও অভিজ্ঞতা থেকে। নামসর্বস্ব পদবি দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। আজ তৃণমূলের সাংবাদিকরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আওয়াজ তুলেছেন, আমি সেই কলম যুদ্ধের একজন গর্বিত সহযোদ্ধা।”

ঐক্যবদ্ধ আগামীর অঙ্গীকার

ইফতারের টেবিলে সাংবাদিকদের এই মিলনমেলা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—কটূক্তি, পেশিশক্তি বা বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে চট্টগ্রামের মূলধারার সাংবাদিকতাকে দমানো সম্ভব নয়। ৩২টি বইয়ের লেখক এবং পেন ইন্টারন্যাশনালের সদস্য মো. কামাল উদ্দিনের মতে, ইতিহাস সব সময় সত্যের পক্ষ নেয় এবং যারা সমাজ ও মানুষের পক্ষে কলম ধরেন, সময় তাদের নামই মনে রাখে।

উপস্থিত সাংবাদিকরা এই ঐক্য ধরে রেখে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।