নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬
কাগজে এক আর বাস্তবে আরেক—আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এমন বৈপরীত্য অনেক থাকলেও জন্মদিন নিয়ে এমন মধুর বিড়ম্বনা খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে। আজ ১০ মে, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক এবং প্রখ্যাত কলামিস্ট মো. কামাল উদ্দিন-এর ‘সরকারি’ জন্মদিন। তবে তার এই জন্মদিন উদযাপনের নেপথ্যে রয়েছে এক মজার ও আবেগঘন ইতিহাস, যা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন এক রৈখিক হাস্যরসের মাধ্যমে।
এক জীবনে দুই জন্ম: শৈশবের সেই ‘ভুল’ ও বর্তমানের আনন্দ
মো. কামাল উদ্দিনের প্রকৃত জন্ম হয়েছিল বাংলার ২ বৈশাখ। তৎকালীন গ্রামীণ সমাজে তারিখের চেয়ে ঋতু আর বাংলা মাসের হিসাবই ছিল মুখ্য। কিন্তু স্কুলে ভর্তির সময় একজন শিক্ষকের কলমের ছোঁয়ায় ২ বৈশাখ রূপান্তরিত হয় আন্তর্জাতিক ১০ মে-তে। সেই থেকে শুরু—একটি হৃদয়ের জন্মদিন, আর অন্যটি সরকারি কাগজের।
লেখক নিজেই রসিকতা করে বলেন, “আমি আসলে দুইবার জন্মানো মানুষ! সরকারিভাবে আমি ‘ডাবল জন্মানো’ ব্যক্তি।” তার এই দ্বৈত জন্মদিন এখন তার পরিবার, বিশেষ করে তার নাতি-নাতনিদের কাছে এক পরম বিস্ময় ও আনন্দের খোরাক।
নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটি ও ‘ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রী’
পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য কাশিব যখন দাদুর কাছে তার প্রকৃত জন্ম তারিখ জানতে চায়, তখন তিনি নিজেও দ্বিধায় পড়ে যান। অন্যদিকে কাইয়ানের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন—“দাদু, তাহলে কি আপনি বছরে দুইবার গিফট পাবেন?”—শুনে লেখক তাকে হাস্যচ্ছলে ‘ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রী’ উপাধি দেন। নাতনি কাইয়াও দাদুর এই ‘দুই বয়সের’ রহস্য শুনে বেশ অবাক।
ব্যক্তিত্ব ও বৈশ্বিক পদচারণা
মো. কামাল উদ্দিন কেবল একজন লেখক বা কলামিস্ট নন, তিনি একজন পরিব্রাজকও বটে। এ পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ২৮টি দেশে ৫৩ বার সফর করেছেন। দেশ-বিদেশের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তার লেখনীতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। তার এই জীবনবোধ থেকেই তিনি ফেসবুকে বা সামাজিকভাবে দুই জন্মদিনকেই পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—একদিন আবেগের জন্য, অন্যদিন নিয়মের জন্য।
জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ
দেশের অনেক কিছু কাগজে এক রকম আর বাস্তবে অন্য রকম হওয়ার যে ধারা, নিজের জন্মদিনকেও লেখক সেই ‘জাতীয় ঐতিহ্যের’ অংশ মনে করেন। বয়সের হিসাব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে তার পাল্টা প্রশ্ন থাকে—“কোনটা বলব? বাংলা বয়স, নাকি সরকারি বয়স?”
একজন স্কুল শিক্ষকের কলমের খোঁচায় পাওয়া এই ‘বিরল সৌভাগ্য’ নিয়ে মো. কামাল উদ্দিন জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। হারানো আর পাওয়ার এই দীর্ঘ পথ চলায় তিনি আজও প্রাণবন্ত, যার কলম ও পদচিহ্ন ছড়িয়ে আছে দেশ থেকে দেশান্তরে।
সম্পাদকের নোট: বিশিষ্ট এই গুণী মানুষের জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা ও শ্রদ্ধা।