মো: খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটস্থ আল-হায়াত হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শতাধিক গাইনি রোগী। দীর্ঘদিন ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জেসির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রোগীরা হঠাৎ করেই নিয়মিত চিকিৎসা, ফলোআপ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং ডা. জেসির চেম্বার অবিলম্বে খুলে দিয়ে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও অধিকারবঞ্চিত শেয়ারহোল্ডাররা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে ডা. জেসির চেম্বারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অধীনে চিকিৎসা নেওয়া অসংখ্য নারী রোগীর চিকিৎসাসেবা হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক রোগীর চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, “একটি সেবাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ বিরোধের বলি হতে পারেন না সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালের প্রশাসনিক বা মালিকানাগত দ্বন্দ্বের দায় রোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ওপর।”
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সেবার মান ও পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। তারা চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধ, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু, রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ও আর্থিক হিসাব-নিকাশে পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী কয়েকজন রোগী জানান, আকস্মিকভাবে চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। নিয়মিত ফলোআপ, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ থাকায় অনেককে নতুন করে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে গিয়েও তারা পূর্ববর্তী চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছেন না।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে হাসপাতালের বিরোধ নিরসন, ডা. জেসির চেম্বার পুনরায় চালু এবং রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।