চিকিৎসকের মানবিকতায় মুগ্ধ রোগী, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ: সব চিকিৎসক এক নন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক চট্টগ্রামের কণ্ঠ |

দেশজুড়ে যখন চিকিৎসকদের নিয়ে নানামুখী অভিযোগ ও বিতর্কের ঝড়, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক দৃশ্য কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান চৌধুরীর মানবিক আচরণ এবং তার প্রতি এক বৃদ্ধ রোগীর ভালোবাসার এই ঘটনা যেন নতুন করে বিশ্বাসের গল্প বলছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ডাক্তার আসাদুজ্জামান চৌধুরীর চেম্বারে আসেন। চিকিৎসকের আন্তরিক সেবা এবং সুন্দর আচরণে অভিভূত হয়ে পড়েন সেই রোগী। চিকিৎসা শেষে তিনি চেম্বার থেকে বেরিয়ে যান ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই হাতে মৌসুমী ফল নিয়ে ফিরে আসেন। সেই ফল তিনি চিকিৎসক এবং চেম্বারে থাকা কর্মীদের হাতে তুলে দেন।

কী বললেন চিকিৎসক?

নিজে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে চিকিৎসক আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, এই বৃদ্ধ রোগীর ভালোবাসা তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি বলেন:

“রোগীদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমাকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। এর আগেও এক নারী রোগী তার রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছিলেন। আর এবার এই বৃদ্ধ রোগী নিজে কষ্ট করে ফল কিনে এনে আমাদের খাইয়ে দিলেন। আমি চাই সবার সাথে এমন আন্তরিক ও সুন্দর সম্পর্ক অটুট থাকুক।”

নেটদুনিয়ায় প্রশংসার জোয়ার

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। হাজার হাজার মানুষ মন্তব্যের ঘরে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন:

বিবেচনা: অনেকেই মনে করছেন, সব চিকিৎসককে এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়।

দৃষ্টিভঙ্গি: মন্তব্যকারীদের মতে, একজন চিকিৎসকের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কেবল অর্থ নয়, বরং রোগীর মুখের হাসি এবং দোয়া।

বাস্তবতা: নেটিজেনরা বলছেন, সম্মান দিলে সম্মান ফিরে পাওয়া যায়—এই ভিডিওটি তার এক জীবন্ত উদাহরণ।

চিকিৎসার মূল দর্শন

চিকিৎসা মানেই কেবল প্রেসক্রিপশন লেখা নয়; বরং একজন রোগীর সাথে মানবিক আচরণ, সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং রোগীকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করাও চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা ও অভিযোগ থাকতে পারে—এটি অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই বাস্তবতার মাঝেও আসাদুজ্জামান চৌধুরীর মতো চিকিৎসকদের সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ প্রমাণ করে যে, অন্ধকার থাকলেও আলো এখনো নিভে যায়নি। সব চিকিৎসক এক নন, আর এই সত্যটিই এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।