সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা মোতালেব, খোঁজ নেয়নি দলীয় কোনো নেতাকর্মী

বিশেষ প্রতিনিধি, নোয়াখালী:

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকার পরও খোঁজ নেননি স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী—এমন অভিযোগ ও আক্ষেপ করেছেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মোতালেব।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ চিকিৎসা, পায়ে অস্ত্রোপচার এবং শারীরিক অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটালেও নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র সরে যাননি ৯০ দশকের এই সাবেক ছাত্রনেতা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সেনবাগের উত্তর সাহাপুরের খালেকের দোকানের সামনে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেনবাগমুখী একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় একটি গাড়ি রং সাইডে গিয়ে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) তাঁর পায়ে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকায় প্রায় এক মাস ১৫ দিন হাসপাতালে কাটার পর বাড়িতে ফিরেও টানা দেড় মাস তাঁকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছে।

তবে দীর্ঘ এ চিকিৎসাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের চরম উদাসীনতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন মোঃ আবদুল মোতালেব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার পর সেনবাগ উপজেলা বা কাবিলপুর ইউনিয়নের কোনো নেতা আমার খোঁজ নেননি। বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় থাকার পরও কেউ দেখা করতে আসেননি। এটি অত্যন্ত কষ্টের ও দুঃখজনক।”

রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের এমন আচরণ তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে তুললেও মোতালেবের দলীয় আনুগত্যে ভাটা পড়েনি। পঙ্গুত্ব সামলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ছেলে ও এক আনসার সদস্যের সহায়তায় ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেন তিনি। মোতালেব বলেন, “প্রায় ১৭ বছর পর স্বাধীনভাবে ধানের শীষে ভোট দিতে পেরেছি, এটাই আমার বড় আনন্দ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জায়নামাজে অংশ নিতে না পারা এবং নেতাদের না দেখা করার কষ্ট থাকলেও, বিএনপি করাই আমার মূল সান্ত্বনা।”

অভিযোগের বিষয়ে কাবিলপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার রবিউল হক মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার বাহারও মোতালেবের দুর্ঘটনার খবর অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে হয়তো দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে মোতালেবের পায়ের আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। তিনি সেনবাগের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের কাছে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘদিনের একজন কর্মী হিসেবে মানবিক সহানুভূতি ও পাশে থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মোঃ আবদুল মোতালেব সেনবাগ উপজেলার ৬ নম্বর কাবিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।