চকবাজার থানার অভিযান: প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, নারী গ্রেফতার

মোঃ এরশাদ চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চকবাজার থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) জায়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার নাম করে বাদীর স্ত্রী সাবরিনা আক্তার ও বাদীর মায়ের কাছ থেকে মোট ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের অলংকার নিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই স্বর্ণ বিক্রি করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত নারী।

এ ঘটনায় বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে চকবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর নং-১৪, ধারা-৪২০/৪০৬ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।

মামলা রুজুর পরপরই সিএমপি কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় চকবাজার থানার একটি আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ অক্টোবর দুপুর ১:৩০ মিনিটের দিকে নগরীর খুলশী থানাধীন বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নিপা চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার গাটিয়াডাঙ্গা এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে এবং বর্তমানে কোতোয়ালী থানাধীন জামালখান এলাকার সলিমা সিরাজ মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার পাশের ‘ইফকো এমআর টাওয়ার’-এর ৫ম তলার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম জাহেদুল ইসলাম ডালিম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জানান, আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারগুলো তিনি কোতোয়ালী থানাধীন দিদার মার্কেটের নিচতলার ‘নোভা জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার শুভ মজুমদার (৩৬)-এর কাছে বিক্রি করেছেন।

পরবর্তীতে আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকানের ম্যানেজার শুভ মজুমদার জানান, পূর্বপরিচিত ও নিয়মিত গ্রাহک হওয়ায় আসামি ও তার পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করেই তিনি স্বর্ণগুলো কিনেছিলেন এবং ব্যবসার প্রয়োজনে পরবর্তীতে তা গলিয়ে অন্যান্য অলংকার তৈরি করা হয়।

অভিযানকালে দোকানের ম্যানেজারের উপস্থাপন এবং গ্রেফতারকৃত আসামির শনাক্তকরণের ভিত্তিতে ৩টি স্বর্ণের আংটি, ২টি কানের দুল, ৯টি স্বর্ণের আংটি, ১টি স্বর্ণের হাতের বালা, ৩টি স্বর্ণের গলার চেইন এবং ৩ জোড়া স্বর্ণের কানের অলংকারসহ সর্বমোট ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ লক্ষাধিক টাকা।

পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎকৃত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।