আবুল মোমিন চট্টগ্রাম
মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার এবং তাদের হেফাজত থেকে মোট ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার একটি আভিযানিক দল নগরের কাঠের বাংলো এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে চোর চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. সুমন (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে সুমনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আরও চারজন আসামিকে গ্রেফতার এবং ৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্তে কোতোয়ালি থানায় মামলা (নং-৪২, তারিখ: ১৪/১০/২০২৬ ইং, ধারা-৪১১ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।
মামলার গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চোর চক্রের মূল শিকড় ও অন্যান্য গাড়ির সন্ধান মেলে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে আরও ২টি মোটরসাইকেল (একটি Honda Hornet 150cc ও একটি Honda CB Shine) উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে পাহাড়তলী থানাধীন ‘ওসানভিউ আবাসিক হোটেল’-এর ৪২০ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোঃ ইমরান হোসেন (২৮)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ইমরান চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন গোপীনাথপুর এলাকার মৃত সফিউল আলমের ছেলে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ইমরানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪টি মোটরসাইকেল (Apache RTR 150cc, Hero Honda Hornet 150cc, Hero Honda Hunk 150cc এবং Suzuki Gixxer Monotone 150cc) উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী জেলার চরজব্বর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি থানার অপর একটি চুরি মামলার (মামলা নং-৪(১০)২৬) চোরাইকৃত একটি ‘Glamour 115cc’ বাইক উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও একটি ‘Bajaj Pulsar 150cc’ মোটরসাইকেল উদ্ধার করে আভিযানিক দল।
সব মিলিয়ে সিএমপির কোতোয়ালি থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে চোরাইকৃত সর্বমোট ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানায় একটি চুরি মামলা (মামলা নং-১৭, তারিখ: ৩০/০৮/২০২৫খ্রি, ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড) বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং বাকি চোরাই গাড়ি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
