নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের মেধা শুধু তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, বরং তা সমগ্র বাংলাদেশের সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ২২৬ জন শিক্ষার্থীকে মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
ইসমাইল জবিউল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “দক্ষ পেশাজীবী, সৎ উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি কর প্রদান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মানসিকতাও তৈরি করতে হবে।” তিনি শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি তরুণদের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোর ওপর জোর দেন।
সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, অন্য দেশের সাফল্যের গল্প শোনাই বাংলাদেশের তরুণদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুর সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা, সুশাসন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে বিশ্বমানের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। মানসম্মত শিক্ষা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের তরুণদের নিজেদের সাফল্যের গল্প তৈরি করতে হবে।” ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি চাকরির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল না হয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ ঘোষণা করেছে। প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলে তরুণদের অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক ও সরোয়ার আলমগীর, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায় বজায় রাখতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং শিক্ষাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে একটি আলোকিত ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত।