পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উপলক্ষে আশেকে মদিনা হোসাইনী কাফেলার উদ্যোগে ২১তম তাজেদারে মদিনা সুন্নি কনফারেন্স অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান রেজার সঞ্চালনা এবং শায়েখ মীর মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন নূরী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে তকরির পেশ করেন হযরত মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আল কাদেরী। তিনি তাঁর আলোচনায় কবরের আজাব, হাশরের ময়দান এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহান শান ও মর্যাদা সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সিআইপি পদকপ্রাপ্ত, শ্রেষ্ঠ তরুণ করদাতা, প্রখ্যাত প্রবাসী ব্যবসায়ী ও শেখ নবী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সিআইপি শেখ নবী।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিআইপি শেখ নবী বলেন, “আশেকে মদিনা হোসাইনী কাফেলার ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক কর্মকাণ্ড দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। সমাজ ও মানবসেবায় সংগঠনটির এই অগ্রযাত্রা প্রশংসনীয়।” তিনি কাফেলার শুভকামনা ও দোয়া জানিয়ে ভবিষ্যতে সকল সৎ ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সর্বদা পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সিআইপি শেখ নবী এবং সভাপতি শায়েখ মীর মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন নূরী সিদ্দিকীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ বরণ ও শুভেচ্ছা জানান এমআরকে টিভির পরিচালক মোহাম্মদ মিজান রেজা এবং সহপরিচালক মোহাম্মদ কপিল তালুকদার।
কনফারেন্সে বিশেষ আলোচক হিসেবে মূল্যবান তকরির পেশ করেন মাওলানা শাহাদাত হোসেন আল কাদেরী। এছাড়া শায়ের জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র শায়ের শহিদুল ইসলাম মিনহাজ এবং শায়ের মোহাম্মদ আল আমিনের কণ্ঠে হৃদয়গ্রাহী নাতে রাসুল পরিবেশনায় উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশেকে মদিনা হোসাইনী কাফেলার প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল হালিম, উপদেষ্টা মোহাম্মদ হৃদয়, সহসভাপতি মোহাম্মদ সুজন আত্তারী এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান গণি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ—মোহাম্মদ হিরা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মোহাম্মদ রাজিব, মোহাম্মদ সাহিম, মোহাম্মদ পারভেজ নূরী, মোহাম্মদ তানভীর, মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ পারভেজ, মোহাম্মদ বাবলা, মোহাম্মদ সাদ্দাম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ আলমগীর, মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম রেজা, মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ শাহিন, মোহাম্মদ সাকিব, মোহাম্মদ ফাহিম, মোহাম্মদ রবিউলসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
মাহফিলে ওলামায়ে কেরামরা মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবপ্রেমের শিক্ষা তুলে ধরে বলেন, “বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি ও নৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।”
মাহফিলের শেষভাগে পবিত্র মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। পরিশেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।