নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক চট্টগ্রামের কণ্ঠ:
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রাণনাশের হুমকির মুখ পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাহাড়তলী থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে সোচ্চার হওয়ায় স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাঁকে বিভিন্নভাবে বাধা এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৬ অক্টোবর পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৭৬) দায়ের করেছেন আনোয়ার হোসেন। একই সাথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জিডির বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াপাড়া রেলওয়ে কলোনী এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন আনোয়ার হোসেন। এ সময় মো. আলমগীর (৪২) ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম (৩৬) নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর পথরোধ করে। অভিযুক্তরা তাঁকে অবিলম্বে মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে স্থানটিতেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী এবং চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তিনি জানান, এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এর আগেও তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে থানায় দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতায় নতুন করে দেওয়া এই হুমকিতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো আবেদনে আনোয়ার হোসেন জানান, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কোনো নাগরিক যদি এভাবে হুমকি ও সহিংসতার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহসিকতা হারাবে। তিনি পাহাড়তলী থানার জিডির বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. আলমগীর ও মোহাম্মদ রেজাউল করিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাহাড়তলী থানার জিডি ও পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।