মো: খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা
চট্টগ্রাম সাতকানিয়া অপহৃত ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত টুটুল রায় (২১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মীরসরাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) এই ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত টুটুল রায় চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার কোদালা চা বাগান (১নং ওয়ার্ড) এলাকার জয়ন্ত রায়ের ছেলে। সে বর্তমানে বাঁশখালী থানার পুকুরিয়া চা বাগান এলাকায় বসবাস করছিল।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ৯টার সময় সাতকানিয়া থানাধীন ১নং চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও এলাকার আজিজিয়া আশ্রাফুল উলূম মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। ওত পেতে থাকা টুটুল রায় ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং-৪১২, তারিখ: ০৯/০৬/২০২৬) করেন।
নিখোঁজের পর থেকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে আজ ২০ জুন (শনিবার) তথ্যপ্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে মীরসরাই থানা এলাকা থেকে অপহৃতা ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত টুটুল রায়কে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর ভিকটিম জানায়, অপহরণের পর তাকে মীরসরাইয়ের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার ভিকটিমের পিতা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলে সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ৭/৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১০, তারিখ-২০/০৬/২০২৬ইং)।
সাতকানিয়া থানা পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাতকানিয়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) এস.এম. মাহবুবুর রহমানকে।