।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম: ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১০ মে। প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের জন্মদিন। যিনি তাঁর কলম আর পদচিহ্নে বিশ্বের ২৮টি দেশে ৫৩ বার সফর করেছেন। জীবনের এই পরিণত বেলায় এসেও এই প্রাজ্ঞ বিশ্বভ্রমণকারী খুঁজে ফিরছেন তাঁর সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব—কর্ণফুলীর কূল আর বোয়ালখালীর চরণদ্বীপের নজর মোহাম্মদ বাড়ির মাটির সোঁদা গন্ধ।
শৈশব: যেখানে নদীই ছিল পরমাত্মীয়
জন্মদিনে নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক আব্বাসিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নজর মোহাম্মদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসার কথা। তিনি জানান, আজকের ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে নদী মানেই স্ক্রিনে দেখা নীল জলরাশি, কিন্তু তাঁর কাছে কর্ণফুলী ছিল এক জীবন্ত সত্তা—যে কখনও হাসত, কখনও বা রাগে ফুঁসে উঠত।
তিনি বলেন,
“মানুষ যখন বয়সের শেষ প্রান্তে হাঁটে, তখন সে বোঝে জীবনের বড় সম্পদ টাকা বা জমি নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি। আমার শৈশবের নামই হলো কর্ণফুলী।”
ভেলা বাওয়া থেকে বিশ্বভ্রমণ
শৈশবে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কর্ণফুলীর ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করা সেই দুরন্ত বালকটিই পরবর্তী জীবনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার তাগিদে বিশ্বের ২৮টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ৫৩ বার বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা ঝুলি নিয়ে গবেষক হিসেবে যেমন কুড়িয়েছেন খ্যাতি, কলামিস্ট হিসেবেও তীক্ষ্ণ কলমে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা দিক। তবে তাঁর ভাষায়, বিদেশের চাকচিক্যের চেয়েও তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল সেই ফেলে আসা চরণদ্বীপের বর্ষার দিনের স্মৃতি আর মায়ের হাতের ভাতের গন্ধ।
নদী ভাঙন: শেকড় হারানোর বেদনা
মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের জীবনে এক বড় ট্র্যাজেডি হয়ে আসে কর্ণফুলীর ভাঙন। যে নদী তাঁকে জীবন দিয়েছিল, সেই নদীই একদিন গিলে নেয় তাঁর পৈতৃক ভিটেমাটি। “মানুষ শুধু ঘর হারায় না, শেকড়ও হারায়”—এই গভীর দর্শন তাঁর জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। ভিটেমাটি হারানো সেই ক্ষত আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায় শহরের এই কংক্রিটের ব্যস্ততা থেকে মাটির টানে।
এক নজরে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন
পরিচয়: বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট।
ভ্রমণ অভিজ্ঞতা: বিশ্বের ২৮টি দেশ, মোট ৫৩ বার সফর।
শিক্ষা ও শেকড়: চট্টগ্রামের চরণদ্বীপের নজর মোহাম্মদ বাড়ি, আব্বাসিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মূল্যবোধ: পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আত্মসম্মানবোধকে জীবনের পাথেয় মনে করেন।
উপসংহার
আজকের এই শুভক্ষণে তিনি আয়নায় নিজের পক্ককেশ দেখে অনুধাবন করেন, সময় মানুষকে বৃদ্ধ করলেও শৈশবকে কখনও বৃদ্ধ করতে পারে না। শহরের যান্ত্রিকতার মাঝেও তিনি আজও শুনতে পান আব্বাসিয়া বিদ্যালয়ের সেই ঘণ্টার শব্দ আর কর্ণফুলীর ঢেউয়ের গর্জন।
একজন নিরলস ভ্রমণকারী এবং প্রাজ্ঞ গবেষক হিসেবে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। শুভ জন্মদিন, শব্দশ্রমিক ও বিশ্বপথিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।