
লেখার শুরুতে নিজের সংগীতজগৎ এবং কোটি কোটি ভক্তের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানিয়ে কনকচাঁপা লিখেছেন, “আমি এমন একজন মানুষ, যিনি শ্রোতাদের নিজের মতো করেই ভালোবাসেন ও সম্মান করেন।”
নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বাবা মরহুম আজিজুল হক মোর্শেদ ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং মা মোমেনা জাহান বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক। তাঁদের জন্ম সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হলেও কনকচাঁপার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। তাঁর স্বামী মইনুল ইসলাম খান একজন প্রথিতযশা সুরকার ও সংগীত পরিচালক।
পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি নিজের অদম্য অনুরাগের কথা উল্লেখ করে এই গুণী শিল্পী বলেন, “সারা পৃথিবীর অনেক বিষয়েই আমার প্রবল আগ্রহ। আমি এখনো একজন নিষ্ঠাবান ছাত্রীর মতো পড়াশোনা করি। বই পড়ার বাইরেও পবিত্র আল-কোরআন এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থ জানতে আমি নিয়মিত আরবি ও বাংলায় কোরআন অধ্যয়ন করি।”
ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনবোধ প্রসঙ্গে কনকচাঁপা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “মুসলমানের ঘরে জন্মেছি বলে নয়, মনের দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই, খুব ভালোবেসে আমি ইসলাম ধর্ম নিজের কলবে ধারণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।” তিনি কিয়ামত, রোজ হাশরের ময়দান এবং পরকালের অনন্ত শান্তির ওপর তাঁর অবিচল বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন কটাক্ষ ও সমালোচনার বিষয়ে শিল্পী বলেন, যারা নবীজিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে বা ইসলামের আদব-কেতা নিয়ে কটাক্ষ করে, তাদের প্রতি এক ধরণের তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে তিনি জানান, এসবের মাধ্যমে ইসলাম বা নবীজির মর্যাদার কোনো হানি হয় না।
মানবতা ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কনকচাঁপা লিখেছেন, “অনেকে বলেন মানবতাই বড় ধর্ম। অবশ্যই মানুষের মানবিক গুণ থাকতেই হবে, কিন্তু আমি যদি ধার্মিক বা ধর্মভীরু হয়ে মানবতার জন্য কাজ করি, তাতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না। মানবসেবার অজুহাতে ধর্মীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলা আমার কাছে ফাঁকিবাজি মনে হয়।”
পরিশেষে, সবার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।