
মোঃ সেকান্দর আলম চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর চাঁন্দগাঁও এলাকায় জ্বিন চালান, অলৌকিক আংটি দেওয়া এবং ব্যবসায়িক অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (২০ মে) চাঁন্দগাঁও থানায় তাসমিন আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম ফেরদৌস আলম নয়ন ওরফে শিল্পী এফএ নয়ন চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে নগরীর খাজা রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, তাসমিন আক্তারের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কবিরাজি চিকিৎসার জন্য তারা নয়নের কাছে যান। এই সুযোগে নয়ন নিজেকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ কবিরাজ দাবি করেন এবং ওই নারীর পরিবারের ওপর ‘বান মারা’ হয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখান। পরে সেই বান কাটানো, জ্বিন চালান দেওয়া এবং অলৌকিক আংটি দেওয়ার নাম করে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
এখানেই শেষ নয়, পরবর্তীতে মাছ ধরার ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়া এবং ওষুধ আনার নাটক সাজিয়ে ব্যবসায়িক অংশীদার করার প্রলোভনে ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলে মোট ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন নয়ন।
ভুক্তভোগী নারী পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে, গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে নয়ন টাকা ফেরত দিতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন। উল্টো তাসমিন আক্তারকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী নারী গত ২০ মে চাঁন্দগাঁও থানায় হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এই বিষয়ে চাঁন্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূর হোসেন মামুন চ্যানেল টেন টিভিকে বলেন, “ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা রুজু করি। এরপর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযুক্ত ভণ্ড কবিরাজ ফেরদৌস আলম নয়নকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”