পটিয়ায় বেপরোয়া ‘ঈগল’ বাসে মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যবসায়ীসহ নিহত ৩: মেয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে ঝরল প্রাণ

,,

কাজী প্রিয়া আক্তা মুক্তা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া গতির দূরপাল্লার বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে ইউসুফ কোম্পানী (৬২) নামের এক গ্রিল ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। আজ (শুক্রবার) সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী ক্রসিং ও ভেল্লাপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুই ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নিহত ব্যবসায়ী ইউসুফ কোম্পানী খান মোহনা রেল স্টেশন সংলগ্ন পশ্চিম পাশের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ছোট পোল এলাকায় সফলতার সাথে গ্রিল ওয়ার্কশপের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

घटनाর বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র:

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ গতকাল রাতে পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির তবারক (গোশত) নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ইউসুফ কোম্পানী। পথিমধ্যে কর্ণফুলী ক্রসিং ও ভেল্লাপাড়ার মাঝামাঝি পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতগামী ‘ঈগল পরিবহনের’ একটি বেপরোয়া বাস তাকে এবং আরও পথচারীদের সজোরে চাপা দেয়। বাসের গতি এতোটাই অনিয়ন্ত্রিত ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ব্যবসায়ী ইউসুফ কোম্পানীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান। দুর্ঘটনার পর পর চালক বাসটি নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতের এক স্বজন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে লিখেছেন, “আজ বেল্লে পাড়া, এনাম সাহেবের বাড়ি চট্টগ্রাম, পটিয়া, এক ভয়াবহ মর্মান্তিক এক্সিডেন্টে অনেকজন মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে আমার আবু…”। এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

জানাজার তথ্য:

নিহত ইউসুফ কোম্পানীর জানাজার নামাজ আজ জুমার নামাজের পর তার নিজ গ্রাম খান মোহনা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।

অনিয়ন্ত্রিত বাস চালনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে সাধারণ মানুষ:

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসগুলোর চালকদের বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালনার কারণেই প্রতিনিয়ত এমন তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। কোনো রকম গতিসীমা না মেনে এবং ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘ঈগল’ পরিবহনের মতো দূরপাল্লার বাসগুলো চলাচলের ফলে উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই অনিয়ন্ত্রিত বাস চালনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর ও ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।