বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ, নতুন ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে: চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

, মোঃ সেকান্দার আলম  চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর খালগুলো যাতে পুনরায় দখলের শিকার না হয়, সেজন্য অত্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একইসঙ্গে চলমান প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা বাকি সব খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর পুনঃখনন, সংস্কার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সম্প্রতি (বা আজ) এক সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগর উন্নয়ন নিয়ে চসিক মেয়র এসব গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “শুধু খাল খনন করলেই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালগুলোকে জীবন্ত ও কার্যকর রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” এই লক্ষ্যে ‘স্মার্ট ড্রেইনেজ ব্যবস্থা’র মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকরা যাতে সরাসরি ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা কিংবা খাল দখলের বিষয়ে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এতে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

নগরীর খালগুলোকে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, খালগুলোকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং পরিবেশ ও নগর সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খালপাড়ে ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ), সবুজায়ন, বসার স্থান এবং বিনোদন সুবিধা সৃষ্টি করে সেগুলোকে পর্যটন ও জনবান্ধব স্থানে রূপান্তর করা হবে। এতে একদিকে যেমন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য নতুন উন্মুক্ত স্থান তৈরি হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সব সংস্থার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি খাল, নালা ও ড্রেনের তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিকল্পিতভাবে খাল সংরক্ষণ, পুনঃখনন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উক্ত সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিক, সিডিএ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশেষ করে নগরীর তীব্র জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বহদ্দারহাট, চকবাজার, বদুরতলা ও এর আশপাশের এলাকাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।