আবদুল মোবিন চট্টগ্রাম
আজ রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনা ঘটার মাত্র ১৬ দিনের রেকর্ড সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও রায়
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় শিশু রামিসা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, হত্যা এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।
আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ সমস্ত ফরেনসিক তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানায়। আদালত আসামিদের অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালত কক্ষে আবেগঘন পরিবেশ
গত ২ জুন মামলার দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করেন। মামলার বাদী ও রামিসার বাবার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।
পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা, বড় বোন (ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে), আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শুনানির সময় পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ শুনে পুরো আদালতকক্ষে এক স্তব্ধ ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত আইনজীবীসহ অনেকেই সে সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের অভাবনীয় তৎপরতায় মাত্র ১৬ দিনে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।