নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ১৭ মার্চ, ২০২৬মালয়েশিয়ায়
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া ও সেখানে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতাসহ ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত কিশোররা হলো—চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার মোঃ আব্দুল মান্নানের ছেলে সোহান (১৭) এবং একই এলাকার মোঃ জনির ছেলে ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬)। তারা দুজনেই স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় সোহান ও সাগর। দীর্ঘ খোঁজাখুজির পর পরিবার জানতে পারে, তাদের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার
মামলা দায়েরের পর চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার অভিযানে নামেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা এজাহারনামীয় আসামি মোঃ আব্দুল কাদের মামুন ও মোঃ ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদপুর থেকে চক্রের সদস্য মোঃ মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফা নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, সে আন্তর্জাতিক এই পাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য।
কৌশলগত চাপে ভিকটিম ফেরত
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জায়েদ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাচারকারীরা। নিজেদের রক্ষার্থে চক্রটি মালয়েশিয়ায় জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়।
চূড়ান্ত উদ্ধার ও মূলহোতা গ্রেপ্তার
আজ ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোর ৫:০৫ ঘটিকায় টেকনাফ থানাধীন বড়ইতলী পাহাড়ের ওপর অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন রোহিঙ্গা সদস্য ১) সাব মিয়া, ২) শাহ আলম এবং ৩) মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকেই ভিকটিম সোহান ও সাগরকে উদ্ধার করে পুলিশ।
চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।