বাঁশখালীর প্রেমাশিয়া এলাকার রোকেয়া বেগম (৫০)। জন্মের পর থেকেই ঝড়-জলোচ্ছ¡াস ও সাগরের সঙ্গে লড়াই করে টিকে ছিলেন। কিন্তু ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে আর টিকতে পারেননি। বাপ-দাদার বসতভিটা ও জমা-জিরাত এবং স্বামী-সন্তানসহ ১৪ স্বজন হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হন তিনি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঠাঁই নিয়েছেন সাধনপুরের বৈলগাঁও পাহাড়ের খুপরি ঘরে।
শুধু রোকেয়া বেগম নন, বাঁশখালী উপকূলীয় ৮ ইউনিয়নের কয়েক শত মানুষ বাস্তুভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন। ৯১-এর পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন দুর্যোগ-ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালী ছাড়াও সন্দ্বীপ ও আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তু-বাস্তচ্যুত হয়েছে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও ব্যাপক প্রাণহানির বিভীষিকাময় স্মৃতি নিয়ে ফিরে
এসেছে সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছিল উপকূলবর্তী এলাকায়। উপকূলীয় এলাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।
৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ৩৫ বছরেও সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে। অথচ বাঁধ সংস্কার-মেরামত ও নির্মাণের নামে খরচ হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা। বাঁধ নির্মাণে পানি টাকা যেন ‘জলে গেছে’। এখনো সুরক্ষিত হয়নি উপকূল।