রতন কান্তি দাশ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চাকরি জীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন প্রিয় শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র দাশ—এমন খবরে স্মৃতিকাতর হয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন কয়েক প্রজন্মের সাবেক শিক্ষার্থীরা। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সহকর্মী শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সুখছড়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষককে অশ্রুসিক্ত নয়নে রাজকীয় বিদায় জানাল লোহাগাড়াবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার সুখছড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র দাশের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব নুরুল ইসলাম।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের খতিয়ান
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কার্তিক চন্দ্র দাশ ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর সুখছড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ চার দশক অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করার পর, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি পদোন্নতি লাভ করেন এবং সর্বশেষ সহকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান।
অনুষ্ঠানের মূল মুহূর্ত
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলি জিন্নার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্না ও অন্যান্য সহকর্মীরা বলেন:
“কার্তিক চন্দ্র দাশের শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়। চাকরির শুরু থেকেই আমরা তাঁকে দেখেছি সময়ের প্রতি অত্যন্ত সচেতন হিসেবে। তাঁর নিয়মানুবর্তিতা ও আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিদায়ী শিক্ষকের অনুভূতি
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র দাশ বলেন, “বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে আমার কোমলমতি শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর এই অভূতপূর্ব ভালোবাসা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও এই বিদ্যালয়ের যেকোনো প্রয়োজনে আমি সবসময় পাশে থাকবো।”
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক আমিনুল হক, মিসেস কনিকা দাশ, শেলী পাল, আবু ইউসুফ, আব্দুল কাদের, পারভেজ, অনামিকা দাশ, আতিকুল হক, ফরিদুল আলম, শান্তি রায়, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মজরুর আজম এবং শামসুজ্জোহা প্রমুখ।
৪০ বছরের সুদীর্ঘ পথচলায় কার্তিক চন্দ্র দাশ কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং এলাকার শিক্ষা বিস্তারে একজন আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাঁর এই রাজকীয় বিদায় অনুষ্ঠানটি লোহাগাড়ার শিক্ষক সমাজের জন্য এক অনন্য সম্মাননা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে