চট্টগ্রামের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আপসহীন নেতৃত্ব: সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর অদম্য সাহসে ‘বিপিসি’ আন্দোলন সফল

মো: আব্দুল মোমিন প্রতিনিধি, দৈনিক চট্টগ্রামের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম, ২৩ জুন, ২০২৬:

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরী চট্টগ্রামের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল আমদানিকারক ও পরিবেশক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের গভীর প্রশাসনিক চক্রান্ত রুখে দিয়েছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ। আর এই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে রাজপথ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনে থেকে আপসহীন ও অকুতোভয় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী।

চক্রান্তের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক ‘অভিভাবকহীনতা’

চলতি ২০২৬ সালের মে-জুন মাসে দেশের সমস্ত প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো, রিফাইনারি (ইস্টার্ন রিফাইনারি) এবং মূল কাস্টমস ও বন্দর সুবিধা চট্টগ্রামে থাকা সত্ত্বেও, ঢাকাকেন্দ্রিক এক শ্রেণীর আমলার ব্যক্তিগত ও কৌশলগত স্বার্থে বিপিসি কার্যালয় রাজধানীতে স্থানান্তরের চূড়ান্ত আয়োজন করা হয়েছিল। এই মারাত্মক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মুখে চট্টগ্রামের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নীতিনির্ধারকদের রহস্যজনক নীরবতা যখন স্থানীয় জনমনে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে স্ফুলিঙ্গের মতো আবির্ভাব ঘটে নাগরিক উন্নয়ন সংগঠন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর।

রাজপথ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর: আন্দোলনের রণকৌশল

একজন কলমযোদ্ধা হিসেবে কেবল সংবাদ প্রকাশের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চক্রান্তের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে পুরো চট্টগ্রামবাসীকে এক সুতোয় গাঁথার ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। তাঁর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে আন্দোলনটি ধাপে ধাপে এক বিশাল গণজাগরণে রূপ নেয়:

জনমত গঠন ও প্রচারপত্র: “বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকছে” স্লোগানকে সামনে রেখে স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লাখ লাখ পোস্টার ও ব্যানার পুরো চট্টগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

মাঠপর্যায়ের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ: বিপিসি কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের নিয়ে ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন মুনীর চৌধুরী, যা আমলাতন্ত্রের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দেয়।

১২ দফা দাবি ও স্মারকলিপি: আন্দোলনকে বেগবান করতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মাধ্যমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিকট ১২ দফা সংবলিত একটি ঐতিহাসিক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যেখানে বিপিসি কার্যালয় চট্টগ্রামে বহাল রাখার আইনি ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং চট্টগ্রামকে কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

চক্রান্তের অবসান ও বিজয়

সর্বস্তরের জনতার জোরালো আন্দোলন এবং মূলধারার গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় বিপিসি কর্তৃপক্ষ। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—বিপিসির প্রধান কার্যালয় কোনোভাবেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে না। এটি চট্টগ্রামেই বহাল থাকবে এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় বরাদ্দকৃত জমিতে এর আধুনিক সদর দপ্তর দ্রুত নির্মাণ করা হবে।

বীরোচিত নাগরিক সংবর্ধনার দাবি

বিপিসি রক্ষার এই বিজয় কেবল একটি কার্যালয় টিকিয়ে রাখার লড়াই ছিল না; এটি ছিল চট্টগ্রামের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার লড়াই। চট্টগ্রামের এই অভিভাবকহীনতার দিনে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী যেভাবে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা সমসাময়িক নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাসে বিরল।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা মনে করেন, সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর এই ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মান জানিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সসহ সর্বস্তরের সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে তাঁকে একটি মহতী ও বীরোচিত নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। এই সম্মাননা ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের যেকোনো সংকটে নতুন প্রজন্মকে বুক চিতিয়ে লড়তে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।