সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিম এলাকায় আবারও শুরু হয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন রাত ধরে প্রশাসনের কোনো রকম বাধা ছাড়াই নির্বিচারে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েক রাত ধরে বিবিসি (BBC), এবিসি (ABC), এইচএবি (HAB), ইউবিএম (UBM), ওয়ান স্টার (1 Star) এবং কেবি ৩ (KB 3)—এই ছয়টি ইটভাটা কোনো তোয়াক্কা না করেই পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কেটে সাবাড় করছে। দিনের পর দিন এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
অথচ কিছুদিন আগেও এই অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাহসী অবস্থান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছিল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীসহ পরিচালিত এক বিশাল অভিযানে কৃষিজমি ও পাহাড় থেকে মাটি সংগ্রহের রাস্তা বিকল করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অবৈধ মাটি কাটার সত্যতা পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হাজার হাজার কাঁচা ইট গুঁড়িয়ে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল প্রশাসন। কিন্তু সেই অভিযানের সুফল এখন হুমকির মুখে।
এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
১. গত তিন রাত ধরে পাহাড় ও কৃষিজমি ধ্বংস চললেও প্রশাসন কেন নীরব?
২. প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংস করার এই দুঃসাহস ইটভাটা মালিকরা পায় কোথায়?
৩. সরকারি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের পবিত্র দায়িত্ব হলেও বর্তমান এই স্থবিরতা কার স্বার্থে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে পাহাড় ও কৃষিজমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় নেমে আসবে, যা স্থানীয় কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। স্থানীয়দের দাবি, এই ধ্বংসলীলার দায়ভার প্রশাসনকে অবশ্যই নিতে হবে।
অবিলম্বে অবৈধভাবে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কাটা বন্ধ করা, অভিযুক্ত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাতকানিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনকে পুনরায় কঠোর অবস্থানে দেখার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
