আবদুল মোমিন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফি ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল ও টাকা আদায়কারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম কালা মিয়া ওরফে কালাম মিয়া (৪০)। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা ৬ মিনিটের দিকে মতিউর রহমান নামক এক ব্যক্তির ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি অজ্ঞাত নম্বর (০১৮৬৯১৮২১৩৫) থেকে বিভিন্ন তরুণীর ছবি পাঠিয়ে প্রলোভন দেখানো হয়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সুকৌশলে তার গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও এডিট করে অশ্লীল পর্ণোগ্রাফি কন্টেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৩৩,৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এ ঘটনায় ডবলমুরিং মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হলে অভিযানে নামে পুলিশ। ডবলমুরিং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনূর আলমের নির্দেশনায় এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. ইমান হোসাইন ও সঙ্গীয় ফোর্স এবং ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা পুলিশের যৌথ সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়া থানাধীন বলিভদ্র বেলতলা তালপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কালা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ফোনের একটিতে বাদীকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মূল সিম নম্বর (০১৮৬৯১৮২১৩৫) ছাড়াও ০১৭৫৭১০৪৪৬২ ও ০১৭৫৭১০৪৪২৯সহ মোট ছয়টি মোবাইল সিম পাওয়া যায়। এছাড়া আসামির মোবাইল ফোনগুলোর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমু অ্যাকাউন্ট ঘেঁটেও মামলার বাদীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির অশ্লীল ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, থানা রেকর্ডপত্র ও পিসিআর যাচাই করে গ্রেফতারকৃত কালা মিয়া ওরফে কালাম মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।